• ২৭ পৌষ ১৪৩২, মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Death

কলকাতা

গভীর রাতে ভয়াবহ শব্দ, তারপর নিথর দেহ—পার্ক সার্কাসে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

পার্ক সার্কাসে লোহারপুলের পাশে গভীর রাতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হল এক বৃদ্ধার। জরাজীর্ণ বাড়ির ছাদের চাঙড় ভেঙে পড়ে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বৃদ্ধার ভাই এবং এক বছর দশেকের এক শিশুও।রবিবার রাত তিনটে থেকে সাড়ে তিনটের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। পার্ক সার্কাসের লোহারপুল সংলগ্ন একটি পুরনো তিনতলা বাড়ির নীচের তলায় পরিবার নিয়ে থাকতেন বৃদ্ধা রাবিয়া খাতুন। গভীর রাতে আচমকা বাড়ির একতলার ছাদের বড় অংশ ভেঙে পড়ে নীচের ঘরে। সেই সময় ঘুমিয়ে ছিলেন রাবিয়া খাতুন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।চাঙড়ের ভারী অংশ সরাসরি পড়ে তাঁদের উপর। গুরুতর জখম হন বৃদ্ধা, তাঁর ভাই এবং শিশুটি। তড়িঘড়ি তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, চাঙড়ের আঘাতে ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধার। তাঁর ভাইয়ের পা ভেঙে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহত শিশুটির নাক ও মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।এই দুর্ঘটনার পর গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বাড়িটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। একাধিক পরিবার ভাড়া থাকলেও সংস্কারের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বারবার জানানো সত্ত্বেও বাড়ির মালিক কোনও গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ।এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, বহুবার বাড়িওয়ালাকে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কিছুই শোনেননি। উপরের তলাগুলি তুলনামূলকভাবে ঠিক থাকলেও নীচের তলায় থাকা পরিবারটি আর্থিকভাবে দুর্বল ছিল। সেই পরিবারেরই এই পরিণতি হল বলে দাবি এলাকাবাসীর।ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বাড়ির চারপাশে গার্ডরেল বসানো হয়েছে নিরাপত্তার জন্য। এখনও পর্যন্ত বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে পুরসভা। বাড়ির অবস্থা খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

জানুয়ারি ০৫, ২০২৬
রাজ্য

এসআইআর শুনানির চাপে মৃত্যু? নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

মঙ্গলবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছান নির্বাচন কমিশনের ডেপুটি কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি চলা একাধিক বুথও তিনি পরিদর্শন করবেন বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই মঙ্গলবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।এসআইআর শুনানিতে সময়মতো পৌঁছানোর চাপেই প্রাণ হারিয়েছেন পুরুলিয়ার বাসিন্দা ৮২ বছরের দুর্জন মাঝি, এমনই অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার মৃতের পরিবারের তরফে পুলিশের কাছে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সোমবার এই ঘটনার খবর পেয়ে দুর্জনের বাড়িতে যান তৃণমূলের একাধিক নেতা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কিরীটি আচার্য, ব্লক তৃণমূল সভাপতি মনোজ সাহা, জেলা সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো এবং সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের দাবি, হয়রানির উদ্দেশ্যেই দুর্জন মাঝিকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। তাঁরা আগেই জানিয়েছিলেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানানো হবে।জানা গিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসছে। সেই তালিকায় সোমবার যুক্ত হয়েছে দুর্জন মাঝির নাম। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুনানির নির্ধারিত সময়ে পৌঁছতে পারবেন কি না, এই চিন্তায় ভুগছিলেন তিনি। শুনানির নোটিস পাওয়ার পর থেকেই মানসিক চাপ বাড়তে থাকে। সোমবার শুনানির দিন ব্লক অফিসে যাওয়ার জন্য টোটো খুঁজতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন দুর্জন মাঝি। কিন্তু আর বাড়ি ফেরেননি। প্রায় তিন ঘণ্টা পরে বাড়ির কাছেই রেললাইনের ধারে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।দুর্জন মাঝির পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। বয়স হলেও তিনি যথেষ্ট সুস্থ ছিলেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের লোকজন। এসআইআর শুরু হওয়ার পরে অন্যদের মতো তিনিও এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করেছিলেন। এমনকি ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল। তা সত্ত্বেও গত ২৫ ডিসেম্বর তাঁর কাছে শুনানির নোটিস আসে।মঙ্গলবার এই ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরব হন। তিনি বলেন, সোমবার পুরুলিয়ায় এক বয়স্ক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর কী দোষ ছিল, সেই প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যাঁরা বয়স্ক মানুষদের এ ভাবে ডেকে পাঠাচ্ছেন, তাঁরা বাবা-মাকে সম্মান করতে জানেন না। মুখ্যমন্ত্রী আরও প্রশ্ন করেন, নিজের বাবা-মাকে যদি এ ভাবে ডাকা হত, তবে তাঁরা কী করতেন। এই আবহেই নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫
বিনোদুনিয়া

হার মানলেন মারণ রোগের কাছে, প্রয়াত জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবণী বণিক

সপ্তাহের প্রথম দিনেই টেলিপাড়ায় নেমে এল গভীর শোক। দীর্ঘদিনের মারণ রোগের কাছে হার মানলেন জনপ্রিয় টেলি অভিনেত্রী শ্রাবণী বণিক। ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছিল। সেই কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে সোমবার হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শ্রাবণী।শ্রাবণী বণিক বাংলা টেলিভিশনের এক পরিচিত মুখ ছিলেন। লালকুঠি, রাঙা বউ, গোধূলি আলাপ, সোহাগ চাঁদ-সহ একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। বড়পর্দাতেও কাজ করেছেন শ্রাবণী। আলো ও চাঁদের বাড়ি ছবিতে তাঁর অভিনয় নজর কেড়েছিল।জনপ্রিয়তা থাকলেও আর্থিক দিক থেকে খুব সচ্ছল ছিলেন না অভিনেত্রী, এমনটাই জানা যায়। ক্যানসারের চিকিৎসা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল। মাসখানেক আগেই শ্রাবণীর ছেলে অচ্যুত সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্ট করে মায়ের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, মাকে বাঁচাতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন এবং সকলের সামান্য সাহায্যও তাঁদের কাছে অমূল্য।গত নভেম্বর মাসে সেই আবেদন করা হলেও বছর শেষ হওয়ার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন শ্রাবণী বণিক। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ টেলিপাড়া। অভিনেত্রীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন পরিচালক বাবু বণিক। তিনি বলেন, শ্রাবণীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেবল কাজের ছিল না, তা বন্ধুত্বে পরিণত হয়েছিল। শ্রাবণীর এত দ্রুত চলে যাওয়া তিনি মানতে পারছেন না বলেও জানান। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেছেন তিনি।শ্রাবণী বণিকের প্রয়াণে বাংলা টেলিভিশন জগতে তৈরি হল এক অপূরণীয় শূন্যতা।

ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫
রাজ্য

নাগরিকত্ব পেতে ব্যবহার হচ্ছে না তো? এসআইআর আবহে ডেথ সার্টিফিকেট কেলেঙ্কারি

এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজ্যে গুরুতর অভিযোগ সামনে এল। চুরি গিয়েছে একটি আস্ত ডেথ রেজিস্ট্রার বই। সেই বইয়ে ছিল টানা ১০০টি ডেথ সার্টিফিকেট। কলকাতা হাইকোর্ট ওই সব সার্টিফিকেট বাতিল করার নির্দেশ দিলেও এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই ডেথ সার্টিফিকেটগুলি এসআইআর প্রক্রিয়ায় অসাধু উদ্দেশে ব্যবহার করা হচ্ছে না তো?ঘটনার সূত্রপাত একটি জমি সংক্রান্ত মামলাকে কেন্দ্র করে। ওই মামলায় এক পক্ষ আদালতে একটি ডেথ সার্টিফিকেট জমা দেয়, যেখানে বলা হয় মামলাকারীর বাবার মৃত্যু হয়েছে। পরে জানা যায়, ওই ডেথ সার্টিফিকেটটি সম্পূর্ণ জাল। বিষয়টি সামনে আসার পর মামলার অন্য পক্ষ রাজ্যের জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধীকরণ দফতরে আরটিআই করে জানতে চায়, ওই সার্টিফিকেটের আগে ও পরে থাকা মোট ১০০টি ডেথ সার্টিফিকেট কারা পেয়েছেন।কিন্তু সংশ্লিষ্ট দফতর জানায়, নির্দিষ্ট সিরিয়াল নম্বরের ওই ১০০টি ডেথ সার্টিফিকেট সংক্রান্ত কোনও তথ্য তাদের কাছে নেই। এরপর পঞ্চায়েতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখান থেকেই নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে ১০০ পাতার একটি সম্পূর্ণ ডেথ সার্টিফিকেটের বই। এই ঘটনার পর দ্রুত ওই সার্টিফিকেটগুলি বাতিল করার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করা হয়।চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি কলকাতা হাইকোর্ট জেলাশাসককে নির্দেশ দেয়, দ্রুত ওই ১০০টি ডেথ সার্টিফিকেট বাতিল বলে ঘোষণা করতে হবে এবং জনসমক্ষে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তা জানাতে হবে। তবে অভিযোগ, সেই নির্দেশ জারির পর কয়েক মাস কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি।লোয়ার বাগডোগরা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জানিয়েছেন, জেলা শাসকের দফতর থেকে কোনও নির্দেশ না আসায় ওই ১০০টি সার্টিফিকেট বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়নি। অর্থাৎ আইন অনুযায়ী এখনও সেগুলি বৈধ হিসেবেই রয়েছে। এই অবস্থায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় টাকার বিনিময়ে এই সার্টিফিকেট ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি মামলাকারীর।সব বিষয় উল্লেখ করে এবং কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের কপি সংযুক্ত করে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিয়েছেন ওই ব্যক্তি। তাঁর দাবি, পঞ্চায়েত থেকে বই নিখোঁজ, রাজ্যের দফতরের কাছে তথ্য নেই, হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিলেও সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়নি। এর ফলে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় এই ডেথ সার্টিফিকেটগুলি বেআইনি ভাবে ব্যবহার হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
রাজ্য

টানা এসআইআর কাজেই কি প্রাণ গেল আরও এক বিএলও-র? মুর্শিদাবাদে মৃত্যু ঘিরে তীব্র বিতর্ক

ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজ করতে গিয়েই কি আরও এক প্রাণ ঝরল? মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামে এক বিএলও-র আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে সেই প্রশ্নই ঘুরছে চারদিকে। বৃহস্পতিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে দিঘা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক তথা বিএলও জাকির হোসেনের। দিনের পর দিন স্কুলের দায়িত্বের পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধনের অতিরিক্ত কাজ সামলাতে গিয়েই শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনিএমনই অভিযোগ পরিবারের।পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই টানা মাঠ পর্যায়ে এসআইআর-এর কাজ করছিলেন জাকির হোসেন। সকাল থেকে রাত অবধি ভোটার লিস্ট সংশোধনের কাজে ব্যস্ত থাকতেন। বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎই বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন তিনি। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।এই ঘটনার পরেই ফের রাজ্যজুড়ে প্রশ্ন উঠছেএসআইআর প্রক্রিয়ার বাড়তি চাপেই কি একের পর এক অসুস্থ হচ্ছেন, এমনকি প্রাণ হারাচ্ছেন বিএলও-রা? সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার ফ্রেজারগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা এক বিএলও ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তার আগে কোন্নগরের এক বিএলও একইভাবে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।মুর্শিদাবাদের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত চারজন বিএলও-র মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। এর আগে বর্ধমানে এক মহিলা বিএলও ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরে মালবাজার ও নদিয়ায় দুই বিএলও আত্মঘাতী হন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ক্ষেত্রেও পরিবারগুলির বক্তব্য ছিলঅতিরিক্ত কাজের চাপ ও মানসিক চাপই এই ঘটনার পিছনে অন্যতম কারণ।বারবার সামনে আসছে একই অভিযোগভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ করতে গিয়ে বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছেন না বিএলও-রা। মাঠে নেমে ঘরে ঘরে যাচ্ছেন, তার সঙ্গে স্কুলের নিয়মিত দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে। ফলে শারীরিক ক্লান্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানসিক চাপ।এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে ক্রমবর্ধমান মৃত্যু ও অসুস্থতার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের অন্দরেও। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, কোনও বিএলও-র মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা আর অসুস্থ হলে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। কিন্তু শুধু আর্থিক সাহায্যেই কি ফিরবে হারানো প্রাণ? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে মানুষের মুখে মুখে।খড়গ্রামের এই মৃত্যুর ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্কুলের সহকর্মী থেকে পড়ুয়াদের অভিভাবকসবারই চোখে জল। একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষক ও দায়িত্ববান কর্মীকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। একইসঙ্গে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অন্যান্য বিএলও কর্মীদের মধ্যেও।এসআইআর-এর কাজ যত এগোচ্ছে, ততই যেন বাড়ছে আতঙ্ক। কাজের পরিমাণ কমানো হবে কি না, বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হবে কি নাএই সব প্রশ্নের উত্তর এখন রাজ্য প্রশাসনের দিকেই তাকিয়ে।

নভেম্বর ২৮, ২০২৫
বিনোদুনিয়া

লড়াই শেষ! প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র: ৯০-এ থেমে গেল ছয় দশকের কিংবদন্তি যাত্রা

বার্ধক্যজনিত শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন অভিনয়জগতের হ্যাণ্ডসাম হিরো। নিজ বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। অমিতাভ, আমির, জীতেন্দ্র-সহ চলচ্চিত্র দুনিয়ার তারকারা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন।হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে সোনালি অধ্যায়ের অন্যতম স্তম্ভ ধর্মেন্দ্র প্রয়াত। সোমবার নিজের বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান এই তারকা। বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। কিছু দিন ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। কয়েক দফায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল, তৈরি হয়েছিল উদ্বেগের আবহ। পরে কিছুটা উন্নতির পর বাড়ি ফিরলেও শেষ পর্যন্ত আর ফেরানো গেল না প্রজন্মের পর প্রজন্মকে প্রভাবিত করা এই কিংবদন্তিকে।পরিবারের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনও না এলেও, প্রযোজকপরিচালক এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সূত্রে খবর মিলেছে অভিনেতার প্রয়াণের। সোমবারই পবনহংস শ্মশানে সম্পন্ন হয় তাঁর শেষকৃত্য। শেষযাত্রায় উপচে পড়া ভিড়ভক্ত, প্রতিবেশী, ইন্ডাস্ট্রির কলাকুশলীসবাই যোগ দেন প্রিয় তারকার শেষ দর্শনে।শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, আমির খান, জীতেন্দ্র-সহ অসংখ্য তারকা। শোকবার্তা লিখে কর্ণ জোহর বলেন, একটা যুগের অবসান। ভারতীয় সিনেমা আজ এক মহান শিল্পীকে হারাল।গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়েছিল। ভেন্টিলেশনে থাকার খবরও ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। পরে ধর্মেন্দ্রপুত্র সানি দেওলের সহকারী এবং স্ত্রী হেমা মালিনী সেই তথ্য খণ্ডন করেন। কিছুদিন আগে মৃত্যু-গুজব রটে তাঁর প্রথম স্ত্রীর কান্নার একটি ভিডিও ছড়ানোর পর পরিবারের তরফে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।অভিনেতার শেষ কর্মজীবনেও ছিল ব্যস্ততা। মাত্র ২৪ নভেম্বর প্রকাশ্যে আসে তাঁর অভিনীত ইক্কিস ছবিতে তাঁর চরিত্রের ঝলক। জন্মদিনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই এমন খবর শোকস্তব্ধ করেছে অনুরাগীদের। আগামী ৮ ডিসেম্বর তাঁর ৯০তম জন্মদিন পালনের প্রস্তুতি চলছিল পরিবারেকিন্তু তার আগেই ইন্ডাস্ট্রি হারাল ধর্ম পাজি-কে।প্রায় ছয় দশকের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে শোলে, চুপকে চুপকে, সীতা অউর গীতা, ধর্মবীর, মেরা গাঁও মেরা দেশ-এর মতো কালজয়ী ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবেন ধর্মেন্দ্র। আজ তাঁর প্রয়াণে শোকাহত গোটা দেশআরও এক অধ্যায় শেষ হল ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে।

নভেম্বর ২৪, ২০২৫
বিনোদুনিয়া

চলে গেলেন ধর্মেন্দ্র! বিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন

ভারতীয় সিনেমার কিংবদন্তি তারকা ধর্মেন্দ্র আর নেই। ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন হি-ম্যান নামে পরিচিত এই মহাতারকা। যদিও পরিবার প্রথমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি, দুপুর থেকেই মুম্বইয়ের জুহুর বাড়ির বাইরে অস্বাভাবিক নড়াচড়ায় জোরালো হয় আশঙ্কা। দুপুরের পর তাঁর বাড়ি থেকে একটি অ্যাম্বুল্যান্স বেরিয়ে যায়, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সানি দেওল, ঈশা দেওল ও হেমা মালিনীকে দেখা যায় পাওয়ান হান্স শ্মশানে পৌঁছতে। এরপর অমিতাভ বচ্চন ও অভিষেককে দেখা যায় সাদা পোশাকে ভিলে পার্লের শ্মশানের সামনে। আমির খান পৌঁছন ধর্মেন্দ্রের বাসভবনে।কিছুদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ধর্মেন্দ্র। চিকিৎসকেরা তাঁকে বাড়িতে এনে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মধ্যে রেখেছিলেন। এক সময় শারীরিক অবস্থার খানিক উন্নতি হলেও শেষপর্যন্ত অসুস্থতাকে জয় করতে পারলেন না তিনি।মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে কিংবদন্তির প্রয়াণের খবর। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তে ঢেউ তোলা শোকবার্তা, চলচ্চিত্র জগত শোকস্তব্ধ। পরিচালক করণ জোহর, যাঁর ছবিতে রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি-তে সর্বশেষ অভিনয় করেছিলেন ধর্মেন্দ্র, ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তা লিখে জানান, একটা যুগের অবসান। ভারতীয় সিনেমার প্রকৃত কিংবদন্তি, অপরূপ ব্যক্তিত্ব, সবচেয়ে বড় কথাঅত্যন্ত ভালো মানুষ। আজ আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে যে শূন্যতা তৈরি হল, তা কোনওদিন পূরণ হবে না।ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের এক সোনালি অধ্যায় রচনা করে গেলেন ধর্মেন্দ্র। ছয় দশকের টানা সাফল্য, তিনশোরও বেশি ছবি, আর কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়জয়সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন বলিউডের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর রেখে যাওয়া পরিবারে রয়েছেন দুই স্ত্রী প্রকাশ কৌর ও হেমা মালিনী এবং সন্তানসানি দেওল, ববি দেওল, বিজেতা, অজিতা, ঈশা দেওল ও আহানা দেওল।এ মুহূর্তে চলছে শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান। চলচ্চিত্র দুনিয়ার বন্ধু, সহকর্মী, পরিবারের সদস্য এবং অগণিত শুভানুধ্যায়ী ভিড় জমিয়েছেন শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। মুম্বইয়ের বাতাসে যেন ভেসে বেড়াচ্ছে একটি কথাইএভাবেই কি সত্যিই শেষ হয়ে গেল ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রদের একটির অধ্যায়?

নভেম্বর ২৪, ২০২৫
রাজ্য

পাঠানখালি পঞ্চায়েতে আবারও জালিয়াতি! ভুয়ো মৃত্যু-সার্টিফিকেট বানিয়ে দোকান দখলের অভিযোগ

ভুয়ো জন্মসার্টিফিকেটের জালিয়াতির পরে এবার সামনে এল ভুয়ো মৃত্যু-সার্টিফিকেট কাণ্ড। গোসাবার পাঠানখালি পঞ্চায়েতের নাম জড়াল আবারও। ভাড়া নেওয়া দোকানের দখল পেতেই নাকি এক ব্যক্তি জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে মৃত দেখিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল ভুয়ো মৃত্যুর শংসাপত্র। অবশেষে প্রতারণার দায়ে গ্রেফতার হলেন এক দম্পতিজর্জ ক্লিন্টন ডিকসন এবং তাঁর স্ত্রী ক্যারল এরিকসন ডিকসন। শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করেছে।পুলিশ জানিয়েছে, বহু বছর আগে এজেসি বোস রোডে একটি দোকান ভাড়া নেন সরল রায় ও নিত্যরঞ্জন ঘোষ। পরে সেই দোকানই সাব-টেনেন্ট হিসেবে ভাড়া নেন ডিকসন দম্পতি। অভিযোগ, দোকানের দখল নিজের দাম্পত্যের হাতে নিতে নিত্যরঞ্জন ঘোষকে ২০১৪ সালেই মারা গেছেন বলে দেখানো হয়। অথচ বাস্তবে তিনি জীবিত ছিলেন। কিন্তু দোকান দখল নিশ্চিত করতে এই দম্পতি ২০২৪ সালের অগস্টে পাঠানখালি পঞ্চায়েত থেকে নিত্যরঞ্জনের নামে নতুন করে এক ভুয়ো মৃত্যু-সার্টিফিকেট বানিয়ে নেন।এই কাজে তাঁদের সাহায্য করেন পাঠানখালি পঞ্চায়েতের চুক্তিভিত্তিক কর্মী গৌতম সর্দার। তদন্তকারীদের দাবি, গৌতমই পুরো নথি জালিয়াতির মূল কারিগর। তাঁর বিরুদ্ধে আগেই অভিযোগ উঠেছিল যে তিনি হাজার হাজার ভুয়ো জন্মসার্টিফিকেট এবং শত শত ভুয়ো মৃত্যুসার্টিফিকেট তৈরি করেছিলেন। প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভুয়ো জন্মসার্টিফিকেট এবং ৫১০টি ভুয়ো মৃত্যুসার্টিফিকেট তৈরির ঘটনায় তিনি আগেই গ্রেফতার হয়ে জেল হেফাজতে রয়েছেন। সেই মৃত্যুসার্টিফিকেটগুলির মধ্যেই ছিল নিত্যরঞ্জন ঘোষের নামে প্রস্তুত ভুয়ো শংসাপত্র। সেই নথিই ব্যবহার করে দোকান দখলের চেষ্টা করছিলেন ডিকসন দম্পতিএমনটাই মনে করছে পুলিশ।এই জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে তদন্তকারী সংস্থা। কীভাবে পঞ্চায়েতের ভিতর থেকেই এভাবে ভুয়ো নথি তৈরি হচ্ছিল, কে কে যুক্ত, কোথায় কোথায় এই সার্টিফিকেট ব্যবহার হয়েছেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একের পর এক নথি জালিয়াতির ঘটনায় পাঠানখালি পঞ্চায়েতকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

নভেম্বর ২৪, ২০২৫
দেশ

চতুর্থ তলা থেকে লাফিয়ে মৃত্যু: নয় বছরের ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় জয়পুরের স্কুলকে কঠোর নোটিস CBSE-এর

নয় বছরের এক ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের জেরে নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষাবোর্ড। জয়পুরের নীরজা মোদি স্কুলকে কড়া শব্দে ভরা শোকজ নোটিশ পাঠাল CBSE। ১ নভেম্বর চতুর্থ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু হয়েছিল ওই ক্লাস ফোরের ছাত্রের। পরদিনই২ নভেম্বর নয়, সরাসরি ৩ নভেম্বরCBSE-এর দুসদস্যের বিশেষ তদন্তদল স্কুলে পৌঁছয়। তাদের রিপোর্ট এখন যেন আগুন ধরিয়ে দিয়েছে রাজস্থানের অন্যতম বড় খ্যাতনামা এই স্কুলকে।পরিদর্শন কমিটি জানিয়েছে, স্কুলে ছিল ভয়ঙ্কর নিরাপত্তাহীনতা। পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ, বাচ্চাদের উপর নজরদারি বলতে কিছু নেই, অ্যান্টি-বুলিং সিস্টেম প্রায় অকার্যকর, এমনকি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতিক্রিয়াও নাকি ছিল অস্বাভাবিকভাবে দেরি করা। এমন গুরুতর ত্রুটিযা একাধিক বার তুলে ধরে কমিটি লিখেছে, এই দুর্ঘটনা আটকানো যেত, যদি স্কুল কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করত।ছাত্রটির মৃত্যুতে ইতিমধ্যেই উত্তাল হয়েছে জয়পুর। ভেঙেচুরে পড়েছে পরিবার। সহপাঠীদের উপরেও তার গভীর প্রভাব পড়েছে। এমন এক সময়ে, যখন গোটা দেশজুড়ে ছাত্রদের আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে, তখন আরও একটি শিশুমাত্র নয় বছরেরএভাবে নিজের জীবনের অবসান ঘটানোর ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরই।সরকারি পরিসংখ্যান (NCRB 2023) বলছে, গত বছরই আত্মহত্যা করেছে ১৩,৮৯২ জন ছাত্রছাত্রী। ভারতের মোট আত্মহত্যার ৮.১ শতাংশই ছাত্রদের। এই ভয়ঙ্কর বাস্তবের মধ্যে জয়পুরের এই ঘটনা যেন আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখালস্কুলে মানসিক স্বাস্থ্য, সহানুভূতি, নজরদারি, এবং বুলিং প্রতিরোধ এখনও কতটা দুর্বল ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে।CBSE-এর নোটিশে প্রশ্ন তুলে বলা হয়েছে, একটি টপ-রেটেড স্কুলে যদি এমন অব্যবস্থা থাকে, তবে দেশের হাজার হাজার সাধারণ স্কুলে কী চলছে? স্কুল কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। কিন্তু শহরজুড়ে এখন একটাই প্রশ্নকতটা নিরাপদ ভারতের বাচ্চারা?

নভেম্বর ২১, ২০২৫
রাজ্য

পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর রাজস্থানে মালদার পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ উদ্ধার

পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর রাজস্থানের জয়পুরে উদ্ধার হল মালদার পরিযায়ী শ্রমিক হরিবোল ঘোষের দেহ। রবিবার রাজস্থান পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করার পর বুধবার দুপুরে কফিনবন্দী অবস্থায় তাঁর মরদেহ পৌঁছায় চাঁচল মহকুমার নরদিপুর গ্রামে। গ্রামে পৌঁছাতেই শোকের আবহের পাশাপাশি চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।হঠাৎ নিখোঁজ, তারপর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত শ্রমিকের নাম হরিবোল ঘোষ (৩৮)। গত ৯ অক্টোবর রাজস্থানের জয়পুরে নির্মাণ শ্রমিকের কাজে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের দাবি, গত সপ্তাহে সহকর্মী শ্রমিকরা ফোন করে জানান যে হরিবোল রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। এরপর পরিবার পুখুরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।তবে ঘটনাটি ভিনরাজ্যের হওয়ায় মালদার পুলিশ তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য জানাতে পারেনি। ঠিকাদারি সংস্থার সঙ্গেও পরিবারের যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।হরিবোলের পিসতুতো দাদা রতন কর্মকার বলেন, মঙ্গলবার থেকে ওর খোঁজ পাচ্ছিলাম না। ঠিকাদারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়নি। রবিবার রাজস্থান পুলিশ ফোন করে জানায়, রক্তাক্ত অবস্থায় হরিবোলের দেহ উদ্ধার হয়েছে। ও আত্মহত্যা করতে পারে না। পরিশ্রমের উপার্জিত টাকা ছিনতাই করতেই ওকে খুন করা হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ।গ্রামে আতঙ্ক ও ক্ষোভবুধবার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই শোকের পাশাপাশি উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একই গ্রামের বহু শ্রমিক বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করতে যান। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গত কয়েক মাসে গ্রাম থেকে অন্তত তিনজন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে। ফলে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে শ্রমিক পরিবারগুলির মধ্যে। এক শ্রমিক পরিবারের সদস্য বলেন, বিনা সুরক্ষায়, না জানি কী ঝুঁকি নিয়ে বাইরে কাজ করতে যেতে হচ্ছে। এখন আর সাহস হচ্ছে না।রাজনীতিকদের প্রতিক্রিয়ামালতীপুরের তৃণমূল বিধায়ক ও জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী বলেন,ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা মৃতের পরিবারের পাশে আছি। প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।পরিবারের দাবি সঠিক তদন্ত চাইহরিবোল ঘোষের পরিবার দাবি করেছে, তাঁর কাছে রোজগারের মোটা অঙ্কের টাকা ছিল। সেই টাকাই লক্ষ্য করে তাঁকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। তাঁরা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

নভেম্বর ২০, ২০২৫
রাজ্য

সাহু নদীর তীরে রক্তাক্ত দেহ, ২০০ মিটার দূরে গাছে ঝুলছেন স্বামী—চাঞ্চল্য শিলিগুড়িতে

রবিবার ভোরেই শিলিগুড়িতে সামনে এল এক হাড়হিম করা দৃশ্য। সাহু নদীর পাড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেল এক মহিলার গলাকাটা মৃতদেহ। তার কাছাকাছি কোথাও নয়, প্রায় ২০০ মিটার দূরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাছের ডালে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছিল মহিলার স্বামীর নিথর দেহ। নরেশ মোড়ের এই দৃশ্য দেখে মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। খবর যায় আশিঘর থানায়। পুলিশ এসে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে।মৃত দম্পতি তপন মণ্ডল ও অনিমা মণ্ডল স্থানীয় বাসিন্দা। দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের দাম্পত্য। দুই ছেলেকে নিয়ে স্বাভাবিক, শান্ত সংসার। প্রতিবেশীদের মতে, এই দম্পতির মধ্যে কোনও দিন উচ্চবাচ্য বা অশান্তির শব্দ কানেও আসেনি। দুজনেই নিয়মিত নিজেদের কাজে যেতেন, সময়মতো বাড়ি ফিরতেন। তপন ছিলেন রাজমিস্ত্রি, অনিমা একটি কারখানায় কাজ করতেন।কিন্তু শনিবার আচমকাই সবকিছু বদলে যেতে শুরু করে। সন্ধ্যার পর থেকেই আর কোনও খোঁজ মেলেনি তাঁদের। ফোনও সুইচ অফ। পরিবার ও প্রতিবেশীরা রাতভর খোঁজ চালান। থানায় অভিযোগও জানানো হয়। কিন্তু পরদিন সকালে যা দেখা গেল, তা কোনও পরিবারই কল্পনা করেননি। নদীর পাড়ে অনিমার রক্তাক্ত দেহ। গলা প্রায় আলাদা হয়ে গিয়েছে। সেই দেহ থেকে কয়েকশো মিটার দূরেই গাছে তপনের ঝুলন্ত দেহ।পুলিশ এখন এই ঘটনাকে ঘিরে নানা দিক তদন্ত করছে। জোড়া খুন? নাকি স্বামী আগে স্ত্রীকে খুন করে পরে নিজে আত্মঘাতী হয়েছেন? নাকি এর পেছনে আরও কোনও অদৃশ্য চরিত্র রয়েছে? কোনও সূত্র এখনই হাতে পাচ্ছে না পুলিশ। তবে পরিবারের দাবি, তাঁদের মধ্যে কোনও অশান্তি ছিল না। দুই ছেলের কাজের চাপও ছিল স্বাভাবিক। তাই এর পেছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর রহস্য।স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, রাতের অন্ধকারে কিছু সন্দেহজনক আওয়াজ তারা শুনেছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, নদীর দিক থেকে কিছু অচেনা লোককে নাকি দেখা গিয়েছিল। যদিও পুলিশ এখনই কোনও মন্তব্য করতে রাজি নয়। দম্পতির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।শিলিগুড়ির শান্ত ভোলাপাড়া এলাকা এই ঘটনার পর পুরোপুরি আতঙ্কে। ২০ বছরের দাম্পত্যের এমন ভয়াবহ পরিণতি কেউই মানতে পারছেন না। রহস্য যত গভীর হচ্ছে, ততই বাড়ছে স্থানীয়দের উদ্বেগ।

নভেম্বর ১৬, ২০২৫
দেশ

ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের গুজব ছড়াল সোশ্যাল মিডিয়ায়, এষা দেওলের পাল্টা বার্তা ভাইরাল!

বলিউডে সকাল থেকেই হইচই। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে একটাই খবর প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র! কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামনে এল সত্য। মৃত্যুর খবর মিথ্যে, এখনও লড়ে যাচ্ছেন হী-ম্যান। মঙ্গলবার দুপুরে ধর্মেন্দ্রর কন্যা এষা দেওল নিজেই ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে গুজবের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেন। তিনি লিখেছেন, ভুয়ো খবর ছড়াবেন না। আমার বাবার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। অনুরোধ করছি, আমাদের পরিবারের গোপনীয়তাকে সম্মান করুন। বাবার দ্রুত আরোগ্য কামনা করুন।জানা গিয়েছে, ৮৯ বছর বয়সি ধর্মেন্দ্রকে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আপাতত তিনি রয়েছেন আইসিইউতে, রাখা হয়েছে ভেন্টিলেশনে। অভিনেতার শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেড়ে যাওয়াতেই সোমবার রাতে তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে তাঁর চিকিৎসার জন্য। বর্তমানে ধর্মেন্দ্র রয়েছেন চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতে।অভিনেতার স্ত্রী হেমা মালিনীও সোমবার রাতে এক্স (আগের টুইটার)-এ লেখেন, ধরমজির স্বাস্থ্য নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায়। চিকিৎসকেরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। ঈশ্বরের কৃপায় তিনি দ্রুত সেরে উঠবেন। একই সঙ্গে সানি দেওলের টিমও আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ধর্মেন্দ্রর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল, ভয়ের কিছু নেই।আগামী ডিসেম্বরেই ৯০ বছরে পা দেবেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। বয়স নব্বই ছুঁলেও বলিউডে এখনও সক্রিয় ধর্মেন্দ্র। করণ জোহরের রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি-তে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। জয়া বচ্চন ও শাবানা আজমির সঙ্গে তাঁর রোম্যান্টিক দৃশ্য তখনই প্রমাণ করে দিয়েছিল বয়স শুধু একটা সংখ্যা। সম্প্রতি তাঁর নতুন ছবি ইক্কিস-এর প্রথম ঝলকও প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে দর্শকরা দেখে অবাক হয়েছেন তাঁর উজ্জীবিত উপস্থিতি দেখে।তবে কিছুদিন ধরে শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছিলেন ধর্মেন্দ্র। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর অবস্থা এখন স্থিতিশীল, তিনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। তবে চিকিৎসকেরা তাঁর বয়সের কথা মাথায় রেখে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত গণমাধ্যমের সামনে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় রটানো মৃত্যুর গুজব ঘিরে নেটপাড়া সরগরম। ভক্তরা প্রার্থনা করছেন তাঁদের প্রিয় ধরম পাজি-র দ্রুত আরোগ্যের জন্য।

নভেম্বর ১১, ২০২৫
রাজ্য

৩০ বছর ধরে দেশে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ায় আতঙ্কিত বৃদ্ধের মৃত্যু— নদিয়া তহেরপুরে চুপচাপ পরিবার

নদিয়া জেলার তহেরপুর গ্রামে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ষাটের কোঠায় পড়া প্রবীণ শ্যামলকুমার সাহার। ৩০ বছরেরও বেশি সময় আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে একান্তভাবে চলে এসেছিলেন শ্যামলকুমার। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তহেরপুরে বসবাস করছিলেন, ভোটারের আধার কার্ডও ছিল। কিন্তু ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম অনুপস্থিত ছিল।পরিবারের অভিযোগ, তখন থেকেই ব্যক্তিগতভাবে হয়রানির ভীতি ও নাগরিকত্ব-ভিত্তিমূলক উদ্বেগে মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেন তিনি। বাড়িতে এসে তাদের এনুমারেশন ফর্ম হাতে তুলে দিয়েছিলেন স্থানীয় ব্লকএলঅফিসার (বিএলও)। সেই দিন থেকেই শ্যামলকুমার খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ করে দেন। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, ঠিক মতো খাওয়ার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেন তিনি।শেষ সোমবার সকালে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি প্রাণ হারান। মৃতের স্ত্রী বলেন, আমরা তহেরপুরে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আছি। ওর ভোটার কার্ড, আধার কার্ড সব ছিল। তারপর ওই এনুমারেশন ফর্ম আনার পর থেকেই ওর মাথায় চিন্তার দানা বাঁধতে থাকে। আমি কিছু বললে বলত অত আমার কানের সামনে বকবক করো না তো। আসলে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল না ওর। তাই ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করছিল।পড়শি এক যুবক জানান, আসলে সরকার বা Citizenship Amendment Act (CAA)-কথায় নাগরিকত্ব পাবে বলেছে না কোনো অধিকারিক; একটি রাজনৈতিক দল বলেছিল। তাহলে আর সেই কথায় কীভাবে ভরসা রাখবে? বলেই বৃদ্ধের পরিবার দাপিয়ে চলছিল ভয় আর সংশয়ের মধ্যে।পরিবারের দাবি, আজও কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিক অথবা প্রশাসনের কেউ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। কেউ আদালতে বা সরকারী স্তরে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। পরিবারের চোখে আজ 누র আবস্থান, কান্নায় ভেঙে পড়েছে তারা।নদিয়ার তহেরপুর গ্রামে এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়েছেনাগরিকত্ব-বিহীন পরিবেশ, ভোটার তালিকা-হরচর, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এই গল্পে উঠে এসেছে। এই দুর্ঘটনায় সরকারি-নির্বাহী ব্যবস্থার দুচোখ বন্ধ থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

নভেম্বর ১০, ২০২৫
রাজ্য

‘চাপ সামলাতে পারেননি’— ফর্ম বিলির চাপে ব্রেন স্ট্রোক, মৃত্যু মহিলা বিএলও-র! হইচই মেমারিতে

এসআইআর আতঙ্কে কাঁপছে রাজ্য। কোথাও ফর্ম না পেয়ে কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন, আবার কোথাও কাজের চাপে প্রাণ যাচ্ছে সরকারি কর্মীর। এবার পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে ফর্ম বিলির চাপ সামলাতে না পেরে মৃত্যু হল এক মহিলা বিএলও-র। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসন থেকে রাজনৈতিক মহলে।মৃতার নাম নমিতা হাঁসদা (৩৮)। তিনি পেশায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ছিলেন এবং মেমারি চক বলরামপুরের ২৭৮ নম্বর বুথের বিএলও দায়িত্বে ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর ফর্ম বিলির কাজে তাঁকে অমানবিক চাপের মধ্যে ফেলা হয়েছিল। দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল বারবার। প্রতিদিনই ফোন আসত বিডিও অফিস থেকে কত ফর্ম বিলি হয়েছে? টার্গেট পূর্ণ হল কি?স্বামী মাধব হাঁসদা বলেন, ওকে খুব চাপ দেওয়া হচ্ছিল। আমরা বারবার বলেছি, এতটা মানসিক চাপ নিও না। কিন্তু ওর দায়িত্ববোধটা খুব বেশি ছিল। সব সময় চিন্তা করত কাজ শেষ হয়নি। শনিবার সন্ধ্যায় ফর্ম বিলি করে বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন নমিতা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, তিনি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। কালনা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, শেষরক্ষা হয়নি।পরিবারের দাবি, এসআইআর ফর্ম নিয়ে এই অতি তৎপরতার চাপে ওর মৃত্যু। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছিল। খাওয়া-দাওয়াও ঠিক মতো করত না।এই ঘটনার পর এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া। রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকাও নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। মৃতার স্বামী অভিযোগ করেন, ওকে এত কাজ দেওয়া হয়েছিল যে, শরীরটাই ভেঙে গিয়েছিল।বর্ধমানের জেলা শাসক আয়েশা রানি জানিয়েছেন, ঘটনাটা আমরা দেখছি। তদন্ত করে দেখা হবে আসল কারণ কী।অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, আমরা কাউকে কোনও চাপ দিইনি। যারা কাজের ওপর চাপ দিচ্ছে, তারা প্রশাসনের লোকজন। সাধারণ মানুষের সামনে এই নাটক তৈরি করা হচ্ছে।তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মৃত্যুর ঘটনা রাজ্যে চলমান এসআইআর বিতর্ককে আরও উসকে দেবে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এবার সরকারি কর্মীর মৃত্যু সেই আতঙ্ককে নতুন মাত্রা দিল।মেমারির এই ট্র্যাজেডি এখন প্রশ্ন তুলছে এসআইআর ফর্ম বিলির নামে কি রাজ্যে প্রশাসনিক অমানবিকতার চিত্রই ফুটে উঠছে?

নভেম্বর ০৯, ২০২৫
রাজ্য

পরিচয়পত্র চাইতেই উধাও পরিবার! আলিপুরদুয়ারে মৃতা কি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী?

হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছিল এক মহিলার। কিন্তু মৃত্যুর পরই ঘটল এমন কাণ্ড, যা দেখে হতবাক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরিচয় যাচাইয়ের জন্য পরিবারের কাছে আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড চাওয়া মাত্রই উধাও হয়ে গেলেন মৃতার পরিবারের সদস্যরা! ফোনেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। ফলে মৃতদেহ এখনো পড়ে আছে আলিপুরদুয়ার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে দাবিদারহীন অবস্থায়।জানা গিয়েছে, গত ৫ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ৪২ বছর বয়সী এক মহিলা নাম সঞ্জিতা বিবিকে ভর্তি করা হয় আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে। ভর্তি করার সময় তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছিলেন, তাঁরা দমনপুর এলাকার বাসিন্দা। এক আত্মীয়ের নাম দেওয়া হয়েছিল জাবেদ আলি। হাসপাতালের নথিতে সেই নাম ও মোবাইল নম্বর নথিভুক্ত করা হয়।রোগীর অবস্থা শুরু থেকেই আশঙ্কাজনক ছিল। তাঁকে আইসিসিইউ-তে রাখা হয়। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিয়মমতো ডেথ সার্টিফিকেট তৈরির জন্য পরিবারের কাছে আধার বা ভোটার কার্ড চাওয়া হলে হঠাৎই গা-ঢাকা দেন তাঁরা। হাসপাতালের সুপার ডাঃ পরিতোষ মণ্ডল বলেন, মৃতা হার্ট অ্যাটাকে ভর্তি হয়েছিলেন। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারিনি। ডেথ সার্টিফিকেটের জন্য পরিচয়পত্র চাইতেই পরিবারের সদস্যরা উধাও হয়ে যান। এরপর আর তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। দুদিন ধরে একজন পুরুষ রোগীর সঙ্গে ছিলেন, তিনিও গায়েব।ফোনে বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের হদিশ মেলেনি। ফলে হাসপাতাল মৃতদেহকে দাবিদারহীন হিসেবে মর্গে সংরক্ষণ করেছে। ঘটনাটি ইতিমধ্যে স্থানীয় থানায় জানানো হয়েছে।এরপরই উঠেছে বড় প্রশ্ন ওই মহিলার কোনও বৈধ পরিচয়পত্র ছিল না কেন? যিনি তাঁর সঙ্গে ছিলেন, তিনি আসলে আত্মীয় না অন্য কেউ? নাকি পুরো ঘটনাটির পেছনে রয়েছে অন্য রহস্য?এসআইআর (Special Investigation of Residents) চলাকালীন এমন ঘটনায় জল্পনা আরও গভীর। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, মৃতা কি আদৌ ভারতীয় নাগরিক ছিলেন, নাকি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী?ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আলিপুরদুয়ার জুড়ে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, পরিবারের কেউ যদি পরিচয়পত্র ও প্রমাণপত্র নিয়ে হাজির না হন, তবে আইনি প্রক্রিয়া মেনে মৃতদেহ প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সমাধিস্থ করা হবে।স্থানীয় এক চিকিৎসক বলেন, এমন ঘটনা বিরল। সাধারণত মৃতের পরিবারের সদস্যরা দেহ নিতে আসেন। এখানে উল্টোটা হয়েছে। তাই বিষয়টি সত্যিই সন্দেহজনক। ঘটনার তদন্তে নামতে চলেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে, কারা মৃতাকে ভর্তি করেছিল, কখন উধাও হয়েছে তারা।

নভেম্বর ০৮, ২০২৫
রাজ্য

স্কুলে মদের আড্ডা, ছাত্রের রহস্যমৃত্যু.... গ্রেফতার তৃণমূল নেতা

পুরুলিয়ার কেন্দায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। ঘটনার জেরে অবশেষে গ্রেফতার হলেন সংশ্লিষ্ট বেসরকারি স্কুলের সম্পাদক জগন্নাথ মাহাতো। তাঁর বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছিল, মৃত্যুর আগে ওই ছাত্রকে তিনি নৃশংসভাবে মারধর করেছিলেন। মঙ্গলবার ভোরেই কেন্দ্রা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।ঘটনা রবিবার সন্ধ্যার। স্কুলের হস্টেলের ঘর থেকে ওই ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। স্কুল থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে বাড়ি হলেও পড়ার সুবিধার জন্য এই হস্টেলেই থাকত সে। রবিবার কোচিং শেষ করে প্রতিদিনের মতোই নিজের ১২ নম্বর ঘরে ঢুকে পড়ে। রাতের দিকে চাঞ্চল্য ছড়ায়, যখন তার নিথর দেহ উদ্ধার করে স্কুল কর্তৃপক্ষ।অভিযোগ, ছাত্রের মৃত্যুর খবর পরিবারকে সময়মতো জানায়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। বরং অন্য শিক্ষার্থীরাই ফোন করে মৃতের বাবামাকে খবর দেয়। শোকস্তব্ধ মায়ের অভিযোগ, শনিবার স্কুলের এক শিক্ষক নাকি মারধর করেছিলেন ছেলেকে। সেই কারণেই পরদিন বন্ধুরা দেখতে গিয়েছিল তার সঙ্গে কথা বলতে, কিন্তু দরজা খোলে না। পরে জানা যায়, ঘরের ভিতর ঝুলছে তাঁর দেহ।শুধু পরিবারের অভিযোগ নয়, স্কুলের বহু ছাত্রের দাবি, শনিবার স্কুল সম্পাদক জগন্নাথ মাহাতো নিজেই ওই ছাত্রকে মারধর করেছিলেন। ঘটনার জেরে সোমবার সকাল থেকে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। মানবাজার রাজ্য সড়ক অবরোধ করে টানা ৯ ঘণ্টা বিক্ষোভ চলে। দাবি ওঠে, অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করলে অবরোধ ওঠানো হবে না।চাপের মুখে সোমবার রাতেই জগন্নাথ মাহাতো ও তাঁর ভাইকে আটক করে পুলিশ। যদিও ভাইয়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ না থাকায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয় জগন্নাথ মাহাতোকে।শুধু জগন্নাথ নয়, এই ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নারায়ণ মাহাতো, সহপ্রধান শিক্ষক গুণধর মাহাতো এবং শিক্ষক বিদ্যুৎ মাহাতোর বিরুদ্ধেও। এলাকাবাসীর দাবি, জগন্নাথ মাহাতো শুধু স্কুল সম্পাদকই নন, তিনি স্থানীয় তৃণমূলের দাপুটে নেতা এবং পুরুলিয়া তৃণমূল সাংগঠনিক জেলা কমিটির সদস্য। ২০০৮ সালে এই স্কুল নির্মাণ করেন তিনি।বিজেপি জেলা নেতৃত্বের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিজেপি নেত্রী ময়না মুর্মু বলেন, এই রাজ্যে ছাত্রছাত্রীরা নিরাপদ নয়। আমরা পরিষ্কার তদন্ত চাই, নিহতের মা যেন ন্যায় বিচার পান। অন্যদিকে বাম নেতাদের অভিযোগ, এই স্কুলে নাকি নিয়মিত মদ্যপানের আসর বসত। তাঁদের দাবি, এটা স্কুলের নামে অন্যায় কারবার চলছিল। এখনই বন্ধ করা উচিত।এখন প্রশ্নএ মৃত্যু কি সত্যিই আত্মহত্যা, নাকি মারধরের জেরে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনা? এলাকাবাসীর দাবি একটাইদোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।

নভেম্বর ০৪, ২০২৫
দেশ

ভয়াবহ! একের পর এক গাড়ি পিষে এগলো ডাম্পার—চিৎকারে কাঁপল জয়পুর

ভয়াবহ সড়কদুর্ঘটনায় কেঁপে উঠল রাজস্থানের জয়পুর। সোমবার দুপুরে লোহামান্ডি রোডে একটি বেপরোয়া ডাম্পারের ধাক্কায় মৃত্যু হল অন্তত দশ জনের। আহত হয়েছেন প্রায় পঞ্চাশ জন। তাঁদের মধ্যে বহুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সবাইকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা প্রাণপ্রত্যাশী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।চোখের সামনে এতগুলো প্রাণ হারাতে দেখে শিউরে উঠেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাঁদের দাবি, ডাম্পারের চালক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিল। প্রথমে একটি গাড়িকে ধাক্কা মারে। তারপর আর থামেনি। একের পর এক তিন-চারটি গাড়িকে গুঁড়িয়ে এগিয়ে যায় ভয়ঙ্কর ডাম্পারটি। মুহূর্তে রক্তমাখা লোহামুখী রাস্তায় হাহাকার। চিৎকার-আর্তনাদে ভরে যায় এলাকা। আতঙ্কে জীবন বাঁচাতে ছুটোছুটি শুরু করেন মানুষ।খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। উদ্ধারকাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনও হয়তো কয়েকজন ডাম্পারের নিচে আটকে থাকতে পারেন। ভারি যন্ত্র এনে গাড়ি সরানোর চেষ্টা চলছে। ডাম্পারচালককে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি সত্যিই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন কিনা, তা খতিয়ে দেখতে মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হচ্ছে। পাশাপাশি গাড়ির নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।রাজস্থানে যেন দুর্ঘটনার অভিশাপ নেমেছে। একদিন আগেই, রবিবার সন্ধ্যায় যোধপুরে মালা এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৮ জন পুণ্যার্থী। কোলায়াত মন্দির থেকে ফেরার পথে তাঁদের ট্রাভেলার গাড়ি ধাক্কা মারে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে। এখনও সেই শোক কাটেনি রাজস্থানের মানুষের। তার মধ্যেই ফের মৃত্যুপুরীতে পরিণত হল জয়পুরের ব্যস্ত রাস্তা।দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠছেকেন এত প্রাণ হাঁটুর চাপে? কেন রাস্তায় এত নেশাগ্রস্ত চালক? নিরাপত্তা কোথায়? আর কত পরিবারকে এভাবে ভেঙে পড়তে হবে? এই রক্তাক্ত ছবিই হয়তো আবারও মনে করিয়ে দিলজীবন সেকেন্ডের খেল, আর গাড়ির স্টিয়ারিং ভুল হাতে পড়লেই সর্বনাশ অনিবার্য।

নভেম্বর ০৩, ২০২৫
রাজ্য

ঠাকুর দেখতে না নিয়ে যাওয়ায় অভিমানে আত্মঘাতী ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র! শোকের ছায়া পূর্বস্থলীতে

পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী ২ ব্লকের কালেখাঁতলার নন্দীপাড়ায় ঘটল এক মর্মান্তিক ঘটনা। অভিমানে গলায় গামছার ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হল ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র অংশু দাস (১২)। বিশ্বকর্মা পুজোর আনন্দের মধ্যেই এই অকাল মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও এলাকায়। বৃহস্পতিবার কালনা মহকুমা হাসপাতালে তার মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অংশুর বাবা প্রাণকৃষ্ণ দাস সাইকেল মেরামতির দোকান চালান। সেই দোকানেই ছোট করে বিশ্বকর্মা পূজোর আয়োজন করেছিলেন তিনি। সকালে থেকেই দোকান পরিষ্কারের কাজে সাহায্য করে অংশু। দিনভর আত্মীয়স্বজনের ভিড়ও ছিল তাদের বাড়িতে। বিকেলে পূজারী মন্ত্রোচ্চারণ করে চলে যাওয়ার পর প্রাণকৃষ্ণ দাস আত্মীয়দের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে স্থানীয় কয়েকটি পুজোমণ্ডপ ঘুরতে বের হন। অভিযোগ, সে সময় খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকায় অংশুকে সঙ্গে নেননি তিনি। পরে ছেলে যেতে চাইলে বাবা তাকে বললেও আর বেরোয়নি।সন্ধ্যায় অংশুর মা স্বামীর দোকানে গিয়েছিলেন। ফেরার পর ঘরে ঢুকেই ছেলেকে গলায় গামছার ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবেশীরা এসে ছেলেকে নামালেও তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। শোকে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তারা জানিয়েছেন, অংশু সেদিন বাড়িতে স্বাভাবিক মতো স্নান-খাওয়াও করেছিল। কিন্তু কেন এত বড় সিদ্ধান্ত নিল, তা তারা বুঝে উঠতে পারছেন না। যদিও অংশুর এক আত্মীয় ভাস্কর দাসের বক্তব্য, আত্মীয়দের নিয়ে ঠাকুর দেখতে যাওয়া হলেও অংশুকে বাদ দেওয়া হয়। সেই অভিমান থেকেই হয়তো সে এমনটা করেছে। মাত্র ১২ বছরের এক কিশোরের এই মৃত্যুতে এলাকায় নেমেছে গভীর শোকের ছায়া। পূজার আনন্দের দিনে এমন ঘটনা সকলকেই ব্যথিত করেছে।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৫
দেশ

গায়ক জুবিন গর্গের অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সঙ্গীত জগৎ, লক্ষ লক্ষ স্রোতার হৃদয় ভেঙে চুরমার

ভারতের জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গ আর নেই। মাত্র ৫২ বছর বয়সে তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে স্তব্ধ হয়ে গেছে সঙ্গীত জগৎ। সিঙ্গাপুরে সাংস্কৃতিক উৎসবে যোগ দেওয়ার আগে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচাতে ব্যর্থ হন।গানের জগতে জুবিন গর্গ ছিলেন এক বহুমুখী প্রতিভা। অসমিয়া সংগীতকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করার পাশাপাশি তিনি হিন্দি, বাংলা, নেপালি ও আরও অনেক ভাষায় গান গেয়েছেন। বলিউডে তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় গান গ্যাংস্টার ছবির ইয়া আলি, যা তাঁকে রাতারাতি সারা দেশে পরিচিতি দেয়। অসমে বুকু দুরু দুরু-সহ অসংখ্য গান মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছে।শুধু কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই নয়, সুরকার, অভিনেতা এবং সমাজকর্মী হিসেবেও জুবিনের ভূমিকা প্রশংসনীয়। সংগীতের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতের লোকজ ধারা ও সংস্কৃতিকে তিনি সর্বভারতীয় মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছিলেন। বহু তরুণ শিল্পীর অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিলেন জুবিন।তাঁর প্রয়াণে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলেই গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং বিরোধী নেতারাও টুইটারে শোকবার্তা জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধাঞ্জলিতে ভরে উঠেছে অসংখ্য পোস্ট।অসমের মানুষ তাঁকে ডাকতেন গণগায়ক নামে। কারণ, তাঁর গান ছিল আবেগের, প্রতিবাদের এবং ভালোবাসার প্রতীক। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে দর্শকদের মনোরঞ্জন করে গেছেন। জুবিন গর্গের অকাল প্রয়াণ শুধু একটি সংগীতমুখর জীবনকেই শেষ করেনি, ভেঙে দিয়েছে লক্ষ লক্ষ শ্রোতার হৃদয়। তবে তাঁর কণ্ঠের সুর ও সৃষ্টিগুলো আগামী প্রজন্মের মনেও সমানভাবে বেঁচে থাকবে।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৫
রাজ্য

মন্দিরবাজারে মাটির দেওয়াল ধসে মা ও দুই মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজার থানার কামারপাড়া এলাকায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মাটির দেওয়াল ধসে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক মা ও তাঁর দুই মেয়ে। মৃতরা হলেন বৃহস্পতি কর্মকার (৪৩), তাঁর মেয়ে শিলা কর্মকার (১৫) এবং প্রিয়া কর্মকার (১০)। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে, যখন তারা তাদের মাটির বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে খাওয়া-দাওয়া সেরে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ভোরবেলা হঠাৎ মাটির দেওয়াল ভেঙে পড়ায় তিনজনই চাপা পড়েন। স্থানীয়রা শব্দ শুনলেও প্রাথমিকভাবে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। সকালে দেওয়াল ধসে পড়া অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী নাইয়ারহাট হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকরা তিনজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনার পর মন্দিরবাজার থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পুরনো মাটির দেওয়ালের দুর্বল গঠনই এই দুর্ঘটনার কারণ। তবে ঘটনার বিস্তারিত কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।এই ঘটনায় মন্দিরবাজারের বিধায়ক জয়দেব হালদার কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনাকে দায়ী করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাংলা আবাস যোজনার আওতায় ওই পরিবারকে বাড়ি দেওয়ার জন্য দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছিল এবং বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার তিন বছর আগে তৃতীয় কিস্তির টাকা আটকে না রাখলে বাড়িটি সম্পূর্ণ হতো এবং এই মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যেত। বিধায়ক আরও বলেন, আমরা পরিবারের পাশে রয়েছি এবং তাদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি।এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাটির বাড়ির দুর্বল অবকাঠামোর কারণে এ ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে। এই ঘটনা সরকারি আবাসন প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, যোজনার টাকা সময়মতো দেওয়া হলে এই পরিবারের জীবন বাঁচানো যেত।মন্দিরবাজার থানার পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের পর ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 18
  • 19
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

১৯৭১-এর যুদ্ধনায়ককে কেন ডাকা হল এসআইআর শুনানিতে? মুখ খুলল নির্বাচন কমিশন

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের বুকে কাঁপন ধরানো প্রাক্তন নৌসেনাপ্রধান অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশকে ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন বা এসআইআর শুনানিতে তলব করা ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রাক্তন নৌসেনাপ্রধানকে কেন পরিচয় প্রমাণের জন্য নোটিস পাঠানো হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই সোমবার মুখ খুলল জাতীয় নির্বাচন কমিশন।এসআইআর শুনানির নোটিস পাওয়ার পর নিজের এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অ্যাডমিরাল প্রকাশ। তাঁর পোস্ট সামনে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, অ্যাডমিরাল প্রকাশের জমা দেওয়া এনুমারেশন ফর্মে পূর্ববর্তী এসআইআর সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ছিল না। সেই কারণেই তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে।এলাকার ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার মেডোরা এরমোমিল্লা ডিকোস্টা জানান, এনুমারেশন ফর্মে ভোটারের নাম, এপিক নম্বর, আত্মীয়ের নাম, বিধানসভা কেন্দ্রের নাম ও নম্বর, অংশ নম্বর এবং ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখ ছিল না। ফলে বিএলও অ্যাপের মাধ্যমে নতুন ফর্মের সঙ্গে পুরনো ভোটার তালিকার স্বয়ংক্রিয় মিল করা সম্ভব হয়নি। শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকলেই এই ধরনের ক্ষেত্রে শুনানির জন্য ডাকা হয় বলে জানান তিনি।১৯৭১ সালের যুদ্ধে বায়ুসেনার পাঞ্জাব স্কোয়াড্রনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিমান চালিয়েছিলেন অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশ। সেই সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বীর চক্র পান। প্রায় ৪০ বছর নৌসেনায় কাজ করেছেন তিনি। ফাইটার স্কোয়াড্রন, এয়ার স্টেশন, আইএনএস বিরাট-সহ মোট চারটি যুদ্ধজাহাজ পরিচালনা করেছেন। নৌসেনাপ্রধান থাকাকালীন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারও করেছিলেন তিনি।নোটিস পাওয়ার পর কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অ্যাডমিরাল প্রকাশ লেখেন, এসআইআর ফর্মে যদি প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়া যায়, তাহলে ফর্ম সংশোধন করা উচিত ছিল। তিনি আরও বলেন, বিএলও তিনবার তাঁদের বাড়িতে এসেছিলেন, তখনই অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া যেত। তাঁর অভিযোগ, তিনি ও তাঁর স্ত্রী যথাক্রমে ৮২ ও ৭৮ বছর বয়সে পৌঁছেছেন, অথচ তাঁদের বাড়ি থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে শুনানিতে ডাকা হয়েছে, তাও আবার আলাদা আলাদা দিনে।এই মন্তব্য সামনে আসার পরই বিতর্ক তীব্র হয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ফের জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় শনাক্তকরণ তথ্য না থাকলে বিএলও অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ম্যাপিং করতে পারে না। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে বলে ব্যাখ্যা দিয়েছে কমিশন।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
বিদেশ

ইরানে বিক্ষোভে গ্রেপ্তার ভারতীয়রা? অভিযোগ উড়িয়ে মুখ খুলল তেহরান

খামেনেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। সেই অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে খবর, অন্তত ছজন ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুধু ভারতীয় নয়, বিক্ষোভ দমনের নামে অন্যান্য দেশের নাগরিকদেরও নাকি আটক করছে ইরানের প্রশাসন। এই অভিযোগ ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তবে এই সব দাবি নিয়ে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুলল তেহরান।মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, ইরানে চলমান বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে যে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ছজন ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁরা জড়িত ছিলেন। তবে এই খবরকে কার্যত ভুয়ো বলে দাবি করেছেন ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি।এক্স হ্যান্ডেলে একটি সংবাদ প্রতিবেদন শেয়ার করে ইরানের রাষ্ট্রদূত লেখেন, ইরান নিয়ে বিদেশি বহু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে। তিনি সকলকে নির্ভরযোগ্য ও সরকারি সূত্র থেকে খবর জানার অনুরোধ জানান। যদিও বাস্তবে ইরান থেকে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই সেখানে ইন্টারনেট পরিষেবা কার্যত বন্ধ। পাশাপাশি বিদেশে ফোন করার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। ফলে মৃত ও গ্রেপ্তারির প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসেবের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি। সরকারিভাবে কিছু ঘোষণা না করা হলেও কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরানের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে সেখানকার প্রবাসী ভারতীয়দের কীভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কাও ঘনীভূত হচ্ছে। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে যে কোনও মুহূর্তে ইরানে সামরিক পদক্ষেপ করতে পারে আমেরিকা, এমনই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর এই জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে।আমেরিকার সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছেন ট্রাম্প। এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলেও মার্কিন প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, ইরানে হামলার বিকল্প ভাবছেন তিনি। তেহরান-সহ গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ঘাঁটিতে আঘাত হানার পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
দেশ

আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক অভিযোগ! মমতার বিরুদ্ধে ‘চুরি-ডাকাতি’র তুলনা ইডির

আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে জোড়া পিটিশন দায়ের করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। একটি পিটিশন দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা নিজে। অন্যটি দায়ের করেছেন ইডির তিন আধিকারিক নিশান্ত কুমার, বিক্রম অহলওয়াত এবং প্রশান্ত চান্ডিলা। এই দুই মামলাতেই রাজ্য সরকারের পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার নগরপাল মনোজ ভর্মা, কলকাতা পুলিশের ডিসি দক্ষিণ প্রিয়ব্রত রায় এবং সিবিআইকে।ইডির দায়ের করা পিটিশনে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, পিটিশনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইডি অভিযানের সময় অযাচিত প্রবেশ এবং একটি ফাইল নিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনাকে চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে তুলনা করেছে তদন্তকারী সংস্থা। শুধু তাই নয়, ইডির কাজে যে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে পিটিশনে।এই মামলায় নিজেদের যুক্তি জোরদার করতে ইডি অতীতের তিনটি ঘটনার উল্লেখ করেছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে মুখ্যমন্ত্রী ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন, যা আইনের শাসনের পরিপন্থী।পিটিশনে প্রথম যে ঘটনার কথা বলা হয়েছে, তা ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারির। সারদা মামলায় তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানার প্রতিবাদে ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় ঘটনাটি ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারির। কয়লা পাচার মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিবিআই তাঁদের বাড়িতে পৌঁছনোর আগেই সেখানে হাজির হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃতীয় ঘটনাটি ২০২১ সালের ১৭ মে-র। নারদ মামলায় ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ার পর নিজাম প্যালেসে গিয়ে সিবিআইয়ের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনটাই দাবি ইডির।এতেই শেষ নয়। কলকাতা হাইকোর্টে একটি শুনানি ভেস্তে যাওয়ার নেপথ্যেও তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, শাসকদলের কর্মী-সমর্থকেরা হোয়াটসঅ্যাপ মারফত বার্তা পাঠিয়ে জমায়েত করেছিলেন।এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে একাধিক আবেদন জানিয়েছে ইডি। মুখ্যমন্ত্রী যে বৈদ্যুতিন যন্ত্র নিয়ে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে কোনও তথ্য যেন ডিলিট বা ক্লোন না করা হয়, সেই নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়লা পাচার তদন্তে যুক্ত কোনও কেন্দ্রীয় আধিকারিকের বিরুদ্ধে যেন কলকাতা বা বাংলার কোনও থানায় এফআইআর গ্রহণ না করা হয়, সেই আবেদনও জানানো হয়েছে। শেক্সপিয়ার সরণী থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর স্থগিত রাখার আর্জিও জানানো হয়েছে। সবশেষে আইপ্যাক-কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের দাবিও তুলেছে ইডি।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
কলকাতা

ইডি হানার পরই রাজ্যে বিশেষ বাহিনী! RAF নামল কলকাতায়

ইডির তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসতেই রাজ্যে পাঠানো হল সিআরপিএফের বিশেষ বাহিনী। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের অফিস এবং আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই সময় সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, তিনি কিছু নথি ও হার্ডডিস্ক সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। এই ঘটনার পরেই রাজ্যে আসে সিআরপিএফের এক কোম্পানি র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা RAF।সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর থেকে এই এক কোম্পানি RAF বাংলায় পাঠানো হয়েছে। আপাতত বাহিনীটিকে রাজারহাটের সিআরপিএফ ক্যাম্পে রিজার্ভে রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি ইডি বা অন্য কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তল্লাশিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে, অথবা কোনও বড় আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে এই RAF বাহিনীকে কাজে লাগানো হবে।বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে কোনও রাজনৈতিক উত্তেজনা বা হিংসার ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হতে পারে এই বিশেষ বাহিনীকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় RAF-এর কাছে রয়েছে বিশেষ গাড়ি ও অত্যাধুনিক সরঞ্জাম, যা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।এদিকে আইপ্যাক-কাণ্ডের পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নিরাপত্তা নিয়েও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে রয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দফতর। সিবিআই সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ওই কমপ্লেক্সে কোনও আধাসেনা মোতায়েন ছিল না। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল একটি বেসরকারি সংস্থা। তবে সাম্প্রতিক ঘটনার পর সিজিও কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।আইপ্যাক-কাণ্ড ঘিরে রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাতের আবহে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
দেশ

হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ? এসআইআর মামলায় নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় শীর্ষ আদালত

ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বড় পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে নোটিস পাঠিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন এবং দোলা সেনের করা মামলার ভিত্তিতে এই নির্দেশ দিয়েছে আদালত।এদিন এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে। রাজ্যে চলা নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে আলাদা করে মামলা করেছিলেন দুই তৃণমূল সাংসদ। সেই মামলার শুনানিতেই এদিন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। সাংসদদের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল।শুনানিতে কপিল সিব্বল অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় একাধিক গাফিলতি ও অনিয়ম হয়েছে। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন বহু ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ পাঠাচ্ছে, যা একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও জানান, বাংলার বহু ভোটারকে অযৌক্তিক ভাবে চিহ্নিত করে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। কমিশনের তরফে যে সব অমিল বা লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সির কথা বলা হচ্ছে, তার অনেকটাই বাস্তবে অযৌক্তিক বলে দাবি করেন তিনি।আইনজীবীর এই যুক্তি শুনে নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব তলব করে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নির্দেশে কমিশনের উদ্দেশে নোটিস জারি করা হয়। শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জবাব দিতে তাদের দুসপ্তাহ সময় প্রয়োজন। কিন্তু প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই সপ্তাহের মধ্যেই হলফনামা জমা দিতে হবে।আদালত জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহেই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থান ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
কলকাতা

আরএসি নেই, ওয়েটিং নেই! বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন নিয়ে বড় ঘোষণা রেলের

আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। তারপরই বাংলা থেকে গড়াতে চলেছে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের চাকা। হাওড়া থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত চলবে এই নতুন প্রিমিয়াম ট্রেন। আগামী ১৭ জানুয়ারি মালদহ স্টেশন থেকে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ট্রেন চালু হওয়ার খবরে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আগ্রহ তুঙ্গে।এবার বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন নিয়ে বড় আপডেট সামনে আনল রেল। জানানো হয়েছে, এই ট্রেনে কোনও আরএসি বা ওয়েটিং লিস্ট টিকিট থাকবে না। শুধুমাত্র কনফার্ম টিকিটেই যাত্রা করা যাবে। অর্থাৎ টিকিট কাটলে সিট বা বার্থ নিশ্চিত থাকবেই।রেল সূত্রে খবর, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের ন্যূনতম ভাড়া ধরা হয়েছে ৪০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য। রাজধানী এক্সপ্রেস বা শতাব্দী এক্সপ্রেসের মতো প্রিমিয়াম ট্রেনের তুলনায় এই ট্রেনের ভাড়া সামান্য বেশি হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে যাত্রীদের জন্য থাকবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা।রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ট্রেনে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ থাকবে। পাশাপাশি বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্যও আলাদা কোটা থাকছে। ডিউটি পাস কোটার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।ভাড়ার হিসাব অনুযায়ী, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে ৩এসি শ্রেণিতে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ধরা হয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সা। ২এসি শ্রেণিতে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া হবে ৩ টাকা ১০ পয়সা এবং ওয়ানএসি শ্রেণিতে ভাড়া হবে প্রতি কিলোমিটারে ৩ টাকা ৮০ পয়সা।যেহেতু ন্যূনতম ৪০০ কিলোমিটারের ভাড়া নেওয়া হবে, তাই ৩এসি শ্রেণিতে ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত যাত্রার জন্য খরচ পড়বে ৯৬০ টাকা। ২এসি শ্রেণিতে এই ভাড়া হবে ১২৪০ টাকা এবং ওয়ানএসি শ্রেণিতে ভাড়া পড়বে ১৫২০ টাকা। এই ভাড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত জিএসটি যোগ হবে।হাওড়া থেকে গুয়াহাটির দূরত্ব প্রায় ১০০০ কিলোমিটার। এই পথে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে ৩এসি শ্রেণিতে ভাড়া হবে প্রায় ২৪০০ টাকা, ২এসি শ্রেণিতে ৩১০০ টাকা এবং ওয়ানএসি শ্রেণিতে ভাড়া পড়বে প্রায় ৩৮০০ টাকা।রেল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ভবিষ্যতে ২০০০ কিলোমিটার দূরত্বের যাত্রায় ৩এসি শ্রেণিতে ভাড়া হবে প্রায় ৪৮০০ টাকা, ২এসি শ্রেণিতে ৬২০০ টাকা এবং ওয়ানএসি শ্রেণিতে ৭৬০০ টাকা। ৩০০০ কিলোমিটার দূরত্বের ক্ষেত্রে ৩এসি শ্রেণিতে ভাড়া হবে প্রায় ৭২০০ টাকা, ২এসি শ্রেণিতে ৯৩০০ টাকা এবং ওয়ানএসি শ্রেণিতে ভাড়া পৌঁছবে প্রায় ১১ হাজার ৪০০ টাকায়।বর্তমানে হাওড়া থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত চলা সরাইঘাট এক্সপ্রেসে সর্বোচ্চ ভাড়া ৩এসি শ্রেণিতে ১৪১০ টাকা, ২এসি শ্রেণিতে ১৯৮৫ টাকা এবং ওয়ানএসি শ্রেণিতে ৩৩২০ টাকা।সময়সূচি অনুযায়ী, হাওড়া থেকে গুয়াহাটিগামী বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে এবং পরের দিন সকাল ৮টা ২০ মিনিটে গুয়াহাটিতে পৌঁছবে। গুয়াহাটি থেকে এই ট্রেন ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট নাগাদ এবং পরের দিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে হাওড়ায় পৌঁছবে। সপ্তাহে ছয় দিন এই ট্রেন চলবে। বৃহস্পতিবার ট্রেনটি চলবে না।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
রাজ্য

কাজের কাগজেই ভোটাধিকার! উত্তরবঙ্গের চা বাগান শ্রমিকদের জন্য বড় ছাড় নির্বাচন কমিশনের

উত্তরবঙ্গের চা এবং সিঙ্কোনা বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ছাড় ঘোষণা করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে এবার কাজের নথিই যথেষ্ট বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে বহু বাগান শ্রমিকের ভোটাধিকার পাওয়ার পথ অনেকটাই সহজ হল।রবিবার এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে পাঠিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম তুলতে হলে সংশ্লিষ্ট চা বা সিঙ্কোনা বাগানে কাজ করার প্রমাণপত্র জমা দিলেই হবে। তবে তার সঙ্গে বৈধ বাসস্থানের প্রমাণপত্র যুক্ত করা বাধ্যতামূলক। এই দুটি নথি থাকলেই ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে আর কোনও সমস্যা হবে না।এই বিশেষ ছাড় শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গের সাতটি জেলার জন্য প্রযোজ্য। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং কোচবিহার জেলার চা ও সিঙ্কোনা বাগানের শ্রমিকরাই এসআইআর পর্বে এই সুবিধা পাবেন।প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য প্রথমে মোট ১১টি নথি নির্ধারণ করেছিল নির্বাচন কমিশন। পরে আরও দুটি নথি যুক্ত করা হয়আধার কার্ড এবং বিহারের এসআইআর সংক্রান্ত নথি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গের বহু চা ও সিঙ্কোনা বাগানের শ্রমিকের কাছেই এই নথিগুলি নেই। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁরা বাগানের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আধুনিক পরিচয়পত্র অনেকের কাছেই অধরা।এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গের সাত জেলার জেলাশাসকরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানান, যাতে বাগানের কাজের নথিকেই ভোটার তালিকাভুক্তির প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অবশেষে সেই দাবিতে সায় দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন।এর পাশাপাশি, রাজ্যের প্রান্তিক এবং বিচ্ছিন্ন এলাকার মানুষের কথা মাথায় রেখে এসআইআর শুনানি প্রক্রিয়াতেও বড় পরিবর্তন এনেছে কমিশন। ডিসেন্ট্রালাইজড হিয়ারিং সেন্টার বা বিকেন্দ্রীভূত শুনানি কেন্দ্র চালু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দুর্গম বা প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষও সহজে এসআইআর শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে কমিশন।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
কলকাতা

কলকাতা হাইকোর্টে নতুন প্রধান বিচারপতি কে? জানুন বিচারপতি সুজয় পালের পুরো প্রোফাইল

কলকাতা হাইকোর্টের নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হলেন বিচারপতি সুজয় পাল। এতদিন তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। গত ৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামের বৈঠকে তাঁর নামেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে চূড়ান্ত সিলমোহর দেওয়া হয়।প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম অবসর নেওয়ার পর থেকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ছিলেন বিচারপতি সুজয় পাল। তার আগে এই পদে ছিলেন বিচারপতি সৌমেন সেন। পরে তাঁকে মেঘালয় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করা হলে সেই পদে আসেন বিচারপতি সুজয় পাল।বিচারপতি সুজয় পালের জন্ম একটি প্রবাসী বাঙালি পরিবারে। তবে তাঁর বেড়ে ওঠা মধ্যপ্রদেশে। তিনি এলএস ঝা মডেল স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে রাণি দুর্গাবতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখান থেকেই আইন বিষয়ে পড়াশোনা করে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার পর ২০১১ সালে তিনি জব্বলপুরে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন। পরে তাঁর ছেলে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করায় তাঁকে তেলঙ্গানা হাইকোর্টে বদলি করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের ২৬ মে বি আর গাভাইয়ের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম তাঁকে কলকাতা হাইকোর্টে বদলির সুপারিশ করে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০১৮ সালে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতির অবসরের পর আর কোনও বাঙালি বিচারপতি এই পদে আসেননি। সেই পরিস্থিতি এখনও বদলাল না। নতুন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে ফের এক নতুন অধ্যায় শুরু হল বলে মনে করছেন আইন মহলের একাংশ।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal